ঝারোখার ওপাশ থেকে

এক 

শুধু মাত্র কি এক পাথরের জানালা, যে স্বপ্ন এবং বাস্তবকে আলাদা করে। ওপাশে কেউ দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে এপাশে যা কিছু এগিয়ে যাচ্ছে সময়ের সাথে। সাধারণত যারা পর্দানশীন তাদের ঘর আর বাহিরের মাঝে এক যোগসূত্র। আলোর রেখা যখন এক প্রান্ত থেকে এই শীর্ণ পথ বেয়ে ওপর প্রান্তে এসে পৌঁছায়। যেন এক মায়া নিয়ে আসে নিজের সাথে করে। ঠিক যেন সময়, সে এক দিক থেকে অন্য দিকে চলে যাচ্ছে। মাঝখানে রেখে যাচ্ছে ইতিহাস।  

Add caption

 






ঝারোখা এক স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য স্থাপত্যশিল্পের যার নির্দিষ্ট কোনো সময়কাল পাওয়া যায় না, কবে থেকে এবং কখন থেকে তা ব্যবহার হয়ে আসছে এই উপমহাদেশে। সম্ভবত সেই খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে মৌর্য সাম্রাজ্য থেকে এর ব্যবহার যা ধীরে ধীরে মিশিয়ে দিয়েছে ইসলামিক স্থাপত্যের সাথে নিজেকে। তারপর সে একটু একটু করে মিশে গেছে আমাদের জীবনের সাথে। যেন উঁকি দিয়ে আছে আমাদের অতীত থেকে ভবিষ্যৎ। মুঘল আর রাজস্থানি ঝারোখাগুলো যেন নিজেদের মাঝে এক সম্পর্ক তৈরি করেছে। যা হয়তো বলতে চাইছে আমরা এক হয়েও কতটা আলাদা। আমাদের পরিচয়কে ধরে রেখেছি, ধরে রেখেছি ঐতিহ্য। কেউ ওপাশে এসে দেখে নিচ্ছে আমাদের সম্পর্কের মাঝের ওঠা নামা।   

 

সে হয়তো বলতে চাইছে, ‘কেন’?   

 

‘কেন?’   

এই কেন এমন একটি শব্দটি যা সারাটা জীবন তাড়া করে বেড়ায়। না থাকতে দেয় শান্তিতে না মরণ ডেকে আনে। কেউ যতবার ঠাট্টা করে হেঁসে ওঠে সময়। সময় তো আজিব খেলা যেখানে না কারোর মুক্তি আছে না কারোর স্বাধীনতা। সবাই একই সুতোয় বাঁধা। কেউ কিছুটা আগে কেউ কিছুটা পরে এই যা তফাৎ রয়েছে। প্রতিদিন সকালে যখন দরজায় সূর্যের লাল আভা এসে দাঁড়ায়, দরজার কাছে উঠে এসে দেখি কে যেন আমার ঝারোখা থেকে দেখে নিচ্ছে আকাশ। ওপাশে কি শাহানশাহ বাবর দাঁড়িয়ে আছে আর নিজের মাতৃভূমির জন্য কেঁদে যাচ্ছে। আমি দেখতে পাচ্ছি তার হাতে দোয়াতের কালি, কিছু হয়তো লিখছিলেন। এখন সারাটা রাত  পেরিয়ে এসে দাঁড়িয়েছেন ঝরকার সামনে। অথচ এ যে আমার ঘর ছিল এই তো কিছুক্ষণ আগেই। এখন দেখছি সব স্বপ্ন হয়ে এসে নিজেকে নিয়ে বয়ে যাচ্ছে সময়ের স্রোতে।  

কেন, কেন, কেন এই ডাক? কে আছে অপার এই শূন্যতার মাঝে। যে আমাকে ডেকে নিয়ে চলেছে না ফিরতে পারা এক শূন্য বলয়ে। কাকে ডাকবো নিজের দেশ বলে। সে কি ফেলে আসা সেই অন্তহীন প্রান্তর, না কি এই নতুনের মাঝে কিছুটা আত্মার টান।

1483 জন্ম হল তার, মায়ের দিক থেকে চেঙ্গিস খান আর বাবার দিক থেকে তৈমুর লঙ্গ। কিভাবে সে ঘরে থাকে, সে যে অভিশপ্ত। তাকে যে ঘরের টানে ছাড়তে হবে ঘর। বেছে নিতে হবে এক অন্য পথের নিশান। তার রাজ্যে মানুষ তার রাজ্যে সৈনিক দানা দানা জন্য তাকিয়ে আছে তার দিকে। সে এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাবে, যেখানে বেহেস্ত। ওপাশে হিন্দুস্থান দাঁড়িয়ে আছে এক শামীয়ানার আঙনে নিজেকে দেখার জন্য।   




Comments