মুক্ত গদ্য। স্বপ্নের ECS





মুক্ত গদ্য
দেবনাথ সুকান্ত
স্বপ্নের ECS

সকালের রাস্তাটা এত ফাঁকা কেন, কেউ জাগেনি আজ ? আমি সহেলির কাছ থেকে সকালের সূর্যের দিকে মুখ রেখে কিছুটা উথলানো রেখে যেতে চাই, কিছুটা ভার কম করে, ঠিক যেন শ্রাবণের ডাক ব্যোম, কলস খালি করবো পূর্ণতার আশ্বাসে। কি রয়েছে বুকে জান, খাদান আর কয়লার মাঝে যে সম্পর্ক তারই এক লগ বুক। হিশাব নিকাশ কত মাল কাটা হল, কত গেল গলিত লোহার বুকে। বড় বড় গামলা আছে কারখানায়, বিশাল গামলায় গলা লোহা রাখা হয়, মনে হয় কখনও এক গামলা লোহা মাথায় পড়ে যায়, বা কখনও বাইক চালাতে চালাতে চোখ বন্ধ হয়ে যায়। আকাশে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে যে কথা তার সাথে দামোদর নদে নামি। মাথার ভিতর বেল বাজে ‘বং’ প্রতিধ্বনি আবার আকাশে চলে যায়।  
কেন আমার মাথার ভিতরেই কেন, কেন সহেলিকে আজও আমার বুক পকেটে নিয়ে ফিরতে হয়। কেন নেই আমার উত্তরণ, কত তো ছেলে আছে যাদের জীবনে একটি মাত্র বিশ্বাস আছে ‘এচিভমেন্ট’। আমি শুধু সহেলির না তোলা একটি  ছবি বুকে করে ঘরে ফিরি। তাকে ঘরে রেখে তাকে সাথে করে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে খালি হাতে কবিতার আগুনে ছড়াই। কি কবিতা, কাকে বলে, কেন এত দুর্বোধ্য, কেন নয় সাধারণ মানুষের জন্য, আধুনিক তুমি কি সকল কে সাথে  নেবে না।
এক বার এক গল্পকার প্রশ্ন করেছিল, কবিরা এত আক্ষেপ করে কেন ? সত্যিইতো এই কবিতা কি ঐ শব্দটির উপরেই ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একটি বৃত্ত যার ব্যাসার্ধটুকু সীমাবদ্ধ কিন্তু পরিধি অসীম। তবে সীমাবদ্ধটাই কবিতা নাকি অসীম থেকে কবিতার শুরু।
আমি তার সাথে একটি সীমাবদ্ধ জীবনের আশাইতো করি, অথচ আমাকে কেউ দুহাত দিয়ে দুচোখ বন্ধ করে একটি দরজার বাইরে ঠেলে দেয়, চোখ খুলি মনে হয় এখনও আলোর জন্ম হয়নি, একমাত্র আমি এক বিগ ব্যাং দেখে ফিরছি। যেটুকু আমার সুখ সেটুকু একান্তই আমার যেভাবে আমার দুঃখ গুলিকে ভাগ করতে পারিনি। যদিও সুখ এবং দুঃখ শব্দদুটি কোনো ফাস্টমুভিং কনজিউমার গুডস নয় তাই এরা পুরনো হয়ে গিয়েছে বলে একটি দাবি আছে। আমার কাছে অবশ্য একটি বাইক আছে, একটি পেন আছে, আর নির্জন একটি রাস্তার পাশে ঝাউ বন আছে।
তখন চোদ্দ কি পনের হবে, নেশাখোর এক মাস্টারের নেশায় পড়ে গেলাম। প্রথম প্রেমের অনেক আগে, প্রথম বারের প্রেম। তবেকি প্রথম প্রেমটি প্রথম ছিলনা, দ্বিতীয় ছিল আর দ্বিতীয় প্রেম প্রথম প্রেমের অক্সিজেন। সেটুকু বুঝতে পারি যখন প্রথম কবিতাটির ব্যর্থতায় দ্বিতীয়টি লিখতে বসি। দ্বিতীয়টি যখন পড়ি তখন মনে হয় কিছুই হয়নি আমি তৃতীয়টি লিখতে বসি। কবিতা লেখার এই একটি মাত্র কারণ। এখানে প্রতিটি শব্দই সহেলিকে নির্বাচন করে, আর সহেলি আমাকে একটি উচ্চতা দিয়ে তলা থেকে মই সরিয়ে নেয়। আমি শূন্যের মাঝে পড়তে থাকি, যেহেতু কোনো তল নেই সেহেতু আঘাত নেই। চোখ বন্ধ করে এগিয়ে যাওয়া, চোখ বন্ধ করে অনুভব করা কেউ জড়িয়ে ধরে আছে আমায়।
হয়তো আমিই প্রথম এসেছি কারণ সবকিছু খসে পড়ছে, একটি শিশ্ন খসে পড়ছে দুটি অবহেলিত স্তনের মাঝে। তারা দুই যমজ নাকি সুন্দরী নয়, মলিন এক আয়না কতকাল আগে বলেছিল, তারপর আর তার সামনে দাঁড়ায়নি  তারা। আচমকাই একটি ঝরে পড়া রাত্রি বার বার জেগে উঠছে আর বলছে জেগে থাকো, কারণ চোখে জল এসেছে।
লাইট হাউস থেকে আলো দেখা যাচ্ছে, অর্থাৎ ওদিকে যাবনা, এখনেই কবিতার সৃষ্টি, স্থিতি আর লয়হীনতা।

                                                                                  দেবনাথ সুকান্ত
সি ২/১৪ বিদ্যাসাগর পল্লী
দুর্গাপুর ১৩
৯৯৩৩৬৬৭৩৫৭


Comments